রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক আম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পুষ্টিবিদ মুরাদ পারভেজ। হামলার ঘটনায় নগদ অর্থ, মালামাল ও অফিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মুরাদ পারভেজ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (বিএসসি) ও স্নাতকোত্তর (এমএসসি) সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনা শেষে তিনি ‘ম্যাংগো লাভার’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক আম বিপণন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইনের মাধ্যমে আম সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
মুরাদ পারভেজের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক কমিশনার পারভেজ। তাদের সঙ্গে থাকা সহযোগীরা অফিসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম নষ্ট করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় অফিসে থাকা নগদ ১৫ লাখ টাকারও বেশি অর্থ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
হামলার সময় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুরাদ পারভেজ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক কমিশনার পারভেজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এমন হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







