বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, পররাষ্ট্রনীতিগত কৌশলগত কারণে পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। সেই সফরেই জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয় বলে জানা গেছে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট ২৪টি যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য সংগ্রহ করা হবে।
জানা গেছে, চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আপাতত দেওয়া হচ্ছে না। কারণ আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত বিবেচনায় বিষয়টি সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সময়েই সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।
সূত্র আরও জানায়, যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তিস্তা নদী প্রকল্প, মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে চীনা শিল্পপার্ক, মংলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিভিন্ন শিল্প বিনিয়োগের বিষয়েও দুই দেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য চীনা বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করা।
তবে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ বা চীনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।







