বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম সাগরের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত জহুরুল ইসলাম একটি খাটের ওপর বসে আছেন। তাঁর বাম ঠোঁটে একটি চিকন পাইপ ধরা এবং অন্য এক ব্যক্তি ফয়েল পেপারে আগুন দিয়ে তাতে তাপ দিচ্ছেন, আর জহুরুল ইসলাম সেই পাইপ দিয়ে ইয়াবার ধোঁয়া টানছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হন। এই ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ ও সাধারণ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম সাগরের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এই বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ধুনট উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুবদলে কোনো মাদকসেবী কিংবা সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। বিষয়টি তাঁদের নজরে আসার পরপরই ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত সাগরের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
