বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এটিএম আজাহারুল ইসলাম। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে তাঁর দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন এবং তাদের দল সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সংসদে বিরোধী দলের প্রতি আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বাজেট প্রসঙ্গে এটিএম আজাহার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের সফল বাস্তবায়নই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। তবে সরকার যদি প্রমাণ করতে পারে যে বাজেটটি বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য, তাহলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।
তিনি সুদভিত্তিক অর্থনীতির বিকল্প হিসেবে ইসলামী বন্ড বা সুকুকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন এবং বলেন, ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
দুর্নীতিকে দেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তাই শুধু কথায় নয়, কাজে দুর্নীতিমুক্ত শাসন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদের সব সদস্য একসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অঙ্গীকার করলে দেশ থেকে দুর্নীতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু আধুনিক শিক্ষা নয়, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান।
এটিএম আজাহার আরও বলেন, সংসদীয় বিষয় সংসদেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। তিনি তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
