গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় চাঁদার দাবিতে এক বিএনপি নেতার ওপর আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় কামারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোনাসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে আহতদের সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের পুকুর খনন করে সেই মাটি একটি সরকারি সড়ক নির্মাণকাজে সরবরাহ করছিলেন বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, মাটি সরবরাহের খবর পেয়ে দামোদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, তাঁর সহযোগী নান্নু মিয়া, লাজু মিয়া ও সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন শহিদুলের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন।
শহিদুল ইসলাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম সোনা অভিযোগ করে বলেন, “আমার পুকুর খননের মাটি নির্মাণাধীন সড়কে বহন করায় আব্দুল খালেকসহ আরও কয়েকজন আমার কাছে অন্যায়ভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায়। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, হামলার ঘটনাটি তাঁরা শুনেছেন, তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
