সিলেটের বিয়ানীবাজারে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা কামাল আহমেদ ওরফে ‘চাক্কু কামাল’-এর বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে প্রতিকার এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন।
অভিযোগকারী মঈন উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স শাখা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। তিনি দাবি করেন, বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় ‘চাক্কু কামাল’ ও তাঁর অনুসারীরা মঈন উদ্দিনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় এবং স্থানীয় বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়।
ভুক্তভোগী মঈন উদ্দিন আরও জানান, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে থানায় মামলা দায়ের করলেও হুমকি ও হামলার চেষ্টা বন্ধ হয়নি। ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির মুখে বর্তমানে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র ফেরারি জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন চাক্কু কামাল। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তাঁর এসব অপকর্মের কারণে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষুব্ধ এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চাক্কু কামালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে সিলেট জেলা যুবদলের কাছে লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছেন। তবে এতসব সুপারিশ ও অভিযোগের পরও জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আহমদ দুলন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় তাঁরা তাঁকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা যুবদলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। জেলা কমিটি বিষয়টি কেন্দ্রে পাঠালেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অন্যদিকে, সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, আগের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সত্যতা না মিললেও সম্প্রতি মঈন উদ্দিনের কাছ থেকে চাঁদা দাবির বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। অভিযোগের প্রমাণ মিললে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা কামাল আহমেদ। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ নেই। যদি কেউ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেন, তবে দল ও প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নিলে আমি তা মেনে নেব।”
