আঞ্চলিক রাজনীতি ও বাণিজ্যের নতুন সমীকরণে ক্রমেই কাছাকাছি আসছে প্রতিবেশী দুই দেশ ইরান ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘ডন’ পত্রিকায় প্রকাশিত পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের প্রধান মুহাম্মদ আমির রানার একটি কলামে এই ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণগুলো বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিদ্রোহী তৎপরতা দমনে উভয় দেশের জন্যই এখন একটি ‘কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কারণ, বেলুচ বিদ্রোহীরা ইরান ও পাকিস্তান—উভয় দেশের ভূখণ্ডকেই ব্যবহার করছে এবং দুই দেশেরই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়মিত রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে। এই সাধারণ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশই এখন সীমান্ত সহযোগিতা বাড়াতে একমত।
উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বহুল আলোচিত ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। এই মেগা প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র থেকে পাকিস্তানে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে, যা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ভূ-রাজনৈতিকভাবে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে। আফগানিস্তানের বর্তমান অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সে দেশের ওপর দিয়ে মধ্য এশিয়ায় যুক্ত হওয়ার আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। এর বদলে ইসলামাবাদ এখন কৌশলগতভাবে ইরানের দেওয়া নিরাপদ বিকল্প বাণিজ্য রুটের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও ভূ-অর্থনৈতিক এই অভিন্ন স্বার্থগুলোর কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন মেলবন্ধন আগামী দিনে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
