জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বিরোধী পক্ষকে তীব্র আক্রমণের প্রবণতা পরিহার করে একটি সুন্দর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশ চালানোর তাগিদ দেন।
সংসদ অধিবেশনে জামায়াত আমির আক্ষেপ করে বলেন, “একটা প্রবণতা আমি লক্ষ করেছি, প্রায় সকল বক্তা কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন—এগুলো ছাড়েন, আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা চমৎকার ও সুন্দর কম্বিনেশন নিয়ে চলি।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তোষামদ কিংবা অন্যকে আঘাত করার জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই সংসদ ব্যবহার করা উচিত নয়।
চলমান সংসদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই পার্লামেন্ট মূলত মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই এই সংসদ এমন কোনো আচরণ করবে না, যা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। সংসদকে সবসময় দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়ে, ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে।
সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি একটি যানবাহনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই সংসদের অনেকেই আমরা একদিকেই বসতাম। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত, বিভক্ত নই। কারণ কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না, চালাতে অন্তত দুটি টায়ার লাগে। এই সংসদেরও একটি টায়ার সরকারি দল এবং অন্যটি বিরোধী দল। যেকোনো একটি টায়ার অকেজো বা ফুটো হয়ে গেলে পুরো যানবাহনই অকেজো হয়ে পড়বে।
সংসদের অতীত রীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা বেশিরভাগই নবীন সংসদ সদস্য, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে ভালো কিছু শেখার। আমরা মন্দটা শিখতে চাই না। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামদ করার জন্য গান ও কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। কিন্তু এটা তোষামদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা।”
বক্তব্যের শেষ অংশে জামায়াত আমির সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ দেশের সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সাথে নিজেদের দলের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা একটি কষ্টে ভোগা দল। এক এক করে ১১ জন শীর্ষ নেতাকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।” এ সময় তিনি পাশে বসা দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দেখিয়ে বলেন, “১২ নম্বর জন এখানে এখনো জীবিত আছেন।”
