রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) একযোগে দালালবিরোধী যৌথ অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে নারীসহ মোট ১৩ জন দালালকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান শেষে আয়োজিত এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার নিফাজ রহমান অভিযানের মূল লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, একটি অসাধু দালালচক্রের কারণে এই তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভোগান্তি পোহাতে হয়। মূলত দালালচক্র চিহ্নিত ও গ্রেফতার, তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি স্বচ্ছ ও রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তিন হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে আটক করা ১৩ জন দালালের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দালালি ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
চলমান এই দালালবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা। তিনি বলেন, হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযানকে সবসময় সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়। র্যাবের এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটা অনেক সহজ হয়েছে।
হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই চক্রের সাথে জড়িত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত সরকারি স্থায়ী কোনো কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে দালালি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
