বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সাথে ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তা অস্বীকার এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৮ জুন) এক নারীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে মাগুরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজের সন্তানকে নিয়ে মাগুরা শহরের কলেজপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে শহরের ভায়না এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা রায়হানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর সখ্যতা তৈরি হলে রায়হান নিয়মিত ওই নারীর বাসায় যাতায়াত শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের স্পষ্ট আশ্বাস দিয়ে রায়হান ভুক্তভোগীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে সম্প্রতি বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে তিনি নানা অজুহাতে তা এড়াতে থাকেন। সর্বশেষ গত ২৫ মে নতুন করে বিয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে রায়হান বিয়ের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং উল্টো নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন, থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে অভিযুক্ত রায়হানের পরিবারের সদস্যরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখাচ্ছেন। এর ফলে সন্তানসহ তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে রোববার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় হলেও অভিযোগটিকে দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে রায়হানকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উপজেলা কৃষকদলের শীর্ষ পদে থাকা একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় মাগুরার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
