আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত ১৮ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন ব্যাটালিয়ন উদ্বোধনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাপ্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) এই নতুন ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর শুভ উদ্বোধন করেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত এই ব্যাটালিয়নের অধীনে প্রাথমিকভাবে মোট ৪টি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফার নামে—হযরত আবু বক্কর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)। বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যেই ‘১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর পাশাপাশি এই নতুন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এর আগে বিএমএ-এর ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নে’ মোট ৫টি কোম্পানি ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মানার্থে সেগুলোর নাম রাখা হয়েছিল—জাহাঙ্গীর কোম্পানি, রউফ কোম্পানি, হামিদ কোম্পানি, নুর মোহাম্মদ কোম্পানি এবং মোস্তফা কোম্পানি। সেই ধারাবাহিক সামরিক ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে ইসলামের চার খলিফার নামে সম্পূর্ণ নতুন এই নামকরণের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কাঠামোগত সম্প্রসারণের একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করা হলো।
সামরিক সূত্রটি আরও জানায়, দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নে আরও দুটি নতুন কোম্পানির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি হিসেবে কাজ করবে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) এবং স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-এর নামে প্রস্তাবিত এই কোম্পানি দুটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রতিবছর রিক্রুট হওয়া অফিসার ক্যাডেটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশিক্ষণের মান ও আবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতে নতুন আরেকটি ব্যাটালিয়নের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের ছিল। এই নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের ফলে ক্যাডেটদের নিবিড় ও বিশ্বমানের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান আরও সহজতর হবে।
