ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল যখন নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসের দাবিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মিছিল-সমাবেশ করছে, ঠিক তখনই বরিশালে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও রেস্তোরাঁ ভাঙচুরের এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বরিশাল নগরের একটি রেস্তোরাঁয় হামলা, দুই নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার এই অভিযোগ উঠেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনসহ তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার রাতে নগরের নতুন বাজার মরকখোলা পুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে আহত রেস্তোরাঁর মালিক ও তাঁর বোনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।
আহত রেস্তোরাঁ মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুরে কাউনিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ বিরোধের ঘটনা ঘটে। যাদের সঙ্গে ওই বিরোধ হয়েছিল, তারা দুপুরের দিকে এই রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করেন এবং দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এই সূত্র ধরে গতকাল রাত ১০টার দিকে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাঁদের দোকানে এসে চড়াও হন।
ভুক্তভোগী মালিক জানান, ৩০ থেকে ৩৫টি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন যুবক এসে হঠাৎ দোকানে ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে এবং তাঁর বোনকে শাড়ি ধরে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে বেদম মারধর করা হয় এবং প্রকাশ্য দিবালোকে শ্লীলতাহানি করা হয়। হামলাকারীরা দোকানের খাবার রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন রেস্তোরাঁ মালিকের বোন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, হামলায় বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাতুল, ওয়ালিউল ইসলাম তামিম এবং বেসরকারি গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিমুল ফেরদৌস হাসান সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন বাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে ঝাড়ুমিছিল করেন। পরে পুলিশ ও ছাত্রদল নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, দুপুরে তাঁদের এক কর্মীকে মরকখোলা পুল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী মারধর করে, যে হামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত ছিল। সন্ধ্যায় এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁদের আরেক কর্মীর ওপর হামলা হয়। তারা কোনো রেস্তোরাঁ বা নারীর ওপর হামলা করেননি বরং তাদের ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান এই প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্রদল কখনো কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। তদন্তে যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে নারীদের ওপর হামলা বা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
