ঋণখেলাপির দায়ে উচ্চ আদালত কর্তৃক চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে বলেন, ‘আজকে ঋণখেলাপির দায়ে একজন ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন কি বলতে পারব, উনি ঋণখেলাপি ছিলেন?’
এর আগে গত ১৮ জুন সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছিলেন যে ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে’ দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে, যা নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরে নাজিবুর রহমান স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমাদের একজন সংসদ সদস্য আপনার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সংসদে কোনো ঋণখেলাপি আছে কি না? তখন আপনি বলেছিলেন বিচারাধীন বিষয়ে বলতে পারছেন না। এখন আদালতের রায়ের পর কি আমরা বলতে পারব?’
জামায়াত এমপির এই প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। একজন সদস্যের সদস্যপদ থাকবে কি থাকবে না, তা নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে। ইসি আদালতের নির্দেশনায় কোনো আদেশ জারি করলে তবেই আমি আপনাদের জানাতে পারব। তাই ইসির চূড়ান্ত রায়ের জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে, তখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাবে।’
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা সেদিনও বলেছিলাম, এই সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই, তবে ঋণগ্রস্ত সদস্য থাকতে পারেন। উনি (নাজিবুর রহমান) যে প্রসঙ্গটা তুললেন, এটা যেহেতু আদালতে ফয়সালা হয়ে গেছে এবং আসলাম চৌধুরী তো সংসদ সদস্যের শপথ নিয়ে এখানে আসেন নাই। উনি সংসদ সদস্যই নন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, এটাই শেষ। উনি সংসদ সদস্য থাকলে এই কথা বলা যেত। তাই এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হতে পারে না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ একমত পোষণ করে বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে দেন। তবে তিনি (আসলাম চৌধুরী) সংসদ সদস্য নন, আপনার এই ব্যাখ্যাটি একদম ঠিক আছে।’
