জুলাই আন্দোলনের সময় সশরীরে রাজপথে উপস্থিত হয়ে ‘ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’ স্লোগান দেওয়াটা ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি। সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসে তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী আমলের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
নুরুজ্জামান কাফি জানান, ২০২৪ সালের ১২ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দেন তিনি এবং রাজপথে দাঁড়িয়ে সরাসরি এই স্লোগানটি তুলেছিলেন। সেই স্লোগান দেওয়ার পর থেকেই মূলত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত তাঁকে বন-জঙ্গলে ও নদীর পাড়ে পালিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজপথের সেই স্লোগানের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা কয়েক মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে নিজের নিরাপত্তার খাতিরে তিনি আর বাড়ি ফিরতে পারেননি।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের ভীতিকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, ওই সময় সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা রাজপথে নামা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। তৎকালীন প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাত থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়াতে হতো। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত এক অজানা আতঙ্কের মধ্যে কাটলেও জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি পিছু হটেননি বলে জানান।
