ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাজধানীর প্রধান রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় সমাবেশস্থল ‘মোসাল্লা’ প্রাঙ্গণে ৪ ও ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এ জানাজায় প্রায় ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান সিটি করপোরেশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার, মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং প্রতিনিধিদল এতে অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি কাভার করতে প্রায় ৮০০ বিদেশি সাংবাদিক তেহরানে অবস্থান করছেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, মানুষের উপস্থিতির বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ১১ জুন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির। তেহরানে অনুষ্ঠিত সেই জানাজায় প্রায় ১ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যা সে সময়ের ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ ছিল। সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
জানাজায় অংশ নিতে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও মূল ভেন্যুতে পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
ইরান সরকারের আমন্ত্রণে সফররত বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। তাদের এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
