কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ফাঙ্গাসযুক্ত (ছত্রাক) ও নিম্নমানের বনরুটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক তদন্তে এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিফিন হিসেবে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বনরুটি বিতরণ করা হয়। তবে রুটি হাতে পাওয়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, অধিকাংশ রুটির ওপরেই সবুজ রঙের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) পড়েছে এবং রুটিগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে জড়ো হন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রুটিতে ক্ষতিকারক ফাঙ্গাস বা ছত্রাক দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে এর বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিই। একই সঙ্গে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেনকে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত শেষে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেন জানান, “শিক্ষার্থীদের জন্য ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা আমরা পেয়েছি। এই ধরনের অবহেলা কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী পক্ষগুলোর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।”
এদিকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশুখাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা ইএসডিও-এর স্থানীয় প্রতিনিধি মনজু আলম এ বিষয়ে বলেন, রুটির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেখানে সবুজ ফাঙ্গাস পড়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। রুটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা না বলে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
