ইয়েমেনে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জারি রাখা দীর্ঘ অবরোধ ভেঙে গতকাল শুক্রবার ইয়েমেনের মাটি ছুঁয়েছে একটি ইরানি বিমান। ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বড় সব খবরের আড়ালে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ঘটনা ছিল এটি।
ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের এই যাত্রীবাহী বিমানটির অবতরণ ও উড্ডয়ন ঠেকাতে দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান। তবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সৌদি বিমানগুলো তাদের মিশন সফল করতে পারেনি।
ইয়েমেনের প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহর (হুথি) সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, বিমানটি ইয়েমেনের একটি উচ্চপর্যায়ের হুথি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে ইরানের মরহুম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তেহরানে যাচ্ছিল।
অভিযানকালে সৌদি যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের সাথে সাথেই সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের ইয়েমেনের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় হয়ে ওঠে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক ও পাল্টা হামলার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় সৌদি জেটগুলো দ্রুত ইয়েমেনের আকাশসীমা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
সানার আকাশে ইরানি বিমানের এই সফল অবতরণ ও উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে আনসারুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের ওপর সৌদি জোটের প্রায় ১১ বছরের দীর্ঘ ও কঠোর আকাশ অবরোধ কার্যত ভেঙে চুরমার হলো। এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের অবরোধ কূটনীতিতে হুথিদের এক বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
