চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে বর্তমানে দেশটিতে নজিরবিহীন আয়োজন চলছে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে দীর্ঘ ছয় দিনব্যাপী এই শোক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে এক থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে তেহরান। এই ঐতিহাসিক বিদায়লগ্নে বিশ্বজুড়ে তাঁর জীবনের বিভিন্ন শিক্ষণীয় দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে।
ইমাম খামেনির রচিত বিখ্যাত আত্মজীবনী ‘সেল নম্বর ১৪’ বইটিতে তাঁর সাধারণ জীবন থেকে সর্বোচ্চ নেতা হয়ে ওঠার বিভিন্ন দিক চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে জানা যায়, তাঁর কর্মজীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তিনি প্রথমে মাশহাদের একটি সরু গলিতে অবস্থিত ছোট ‘ইমাম হাসান মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি মাশহাদের বিখ্যাত ও বড় ‘কেরামত মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই মসজিদটি তরুণ শিক্ষার্থী, সাধারণ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মূল মিলনস্থলে পরিণত হয়। তবে খামেনির এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তৎকালীন শাহের সরকারি কর্তৃপক্ষ তাকে এই ঐতিহাসিক মসজিদে ইমামতি করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
কেরামত মসজিদে ইমামতি নিষিদ্ধ হওয়ার তিন মাস পর তিনি আবারও তাঁর পুরোনো ‘ইমাম হাসান মসজিদে’ ফিরে আসেন। সেখানে তিনি দমে না গিয়ে প্রতি শনিবার মাগরিবের নামাজের পর সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ের ওপর সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতেন।
১৯৬৬ সালের দিকে তেহরানে অবস্থানকালে তিনি একটি নির্মাণাধীন মসজিদে জামাতে নামাজ পড়াতেন এবং বক্তব্য দিতেন, যা পরবর্তীতে ‘আমিরুল মুমিনিন মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর রাজনৈতিক কারণে নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেও তিনি বসে ছিলেন না। নির্বাসিত জীবনে তিনি ইরনশাহরের একমাত্র শিয়া মসজিদ ‘আল-রাসুল মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন এবং নামাজের পর অত্যন্ত শিক্ষামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে মানুষের মন জয় করেন।
এমনকি আলী খামেনি যখন মাশহাদের সামরিক কারাগারে বন্দি ছিলেন, সেখানেও তিনি তাঁর বিপ্লবী চেতনা ধরে রাখেন। কারাগারের ভেতরেই তিনি সহবন্দিদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়াতেন। বন্দিদশাতেও তাঁর ইমামতি এবং ধারালো ধর্মীয় বক্তব্যের ব্যাপক প্রভাব দেখে কারারক্ষীরা ভীত হয়ে পড়ে। যার ফলে পরবর্তীতে কার কর্তৃপক্ষ তাকে জামাতে নামাজ পড়াতে এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
