বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে সশরীরে মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালীর চৌমুহনী পাবলিক হল চত্বরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, গত শাসনামলে যাদের পৌরসভার কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা মেয়র হয়েছিল। এমনকি যাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা রাতের ভোটে এমপি হয়ে গিয়েছিল। এসকল অযোগ্য জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের ক্ষমতার টিকিয়ে রাখতে দলীয় পরিচয়ে মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রধারীদের নিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে গড়ে ওঠা এসব বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, মাদক, ইভটিজিং ও জবরদখলসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পুরো দেশ এক অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যারা এখনো অস্ত্র ব্যবসা, ডাকাতি এবং মানুষ খুনের সাথে জড়িত, তাদের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী দিয়ে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো আরেকটি কঠোর অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের উচ্ছেদ করা হবে। বেগমগঞ্জের মাটিতে কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী বা অস্ত্রধারীর স্থান হবে না।
সমাবেশে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আমরা যারা জনপ্রতিনিধি আছি, আমাদের সাথে অনেক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসীরা এসে ছবি তুলতে পারে, আমরা তো সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তবে সে যেই হোক না কেন, ছবির দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে এখন সামাজিকভাবে বড় আন্দোলন গড়ে তোলার সময় এসেছে। এ সময় তিনি আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে। এই যুগান্তকারী বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথম সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও কিশোর গ্যাং কালচার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও গতিশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেত্রী শামীমা বরকত লাকী, চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজুল হক আবেদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি, পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব মহসিন আলমসহ স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
