যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন ভেন্যু, ফ্যান জোন, পার্ক ও স্টেডিয়ামের আশপাশের ব্যস্ত জনসমাগমস্থলগুলোতে ইসলামের শান্তির বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করছেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁরা বিনামূল্যে পবিত্র কুরআনের অনুবাদ, ইসলাম পরিচিতিমূলক ফ্লায়ার, লিফলেট ও বিভিন্ন ইসলামি বই বিতরণ করছেন।
মুনার নেতারা জানান, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি বিশ্বের নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের এক মিলনমেলা। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় যখন ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন স্থানে বিনা বিচারে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের একাংশের নেতিবাচক প্রচারণার কারণে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সাথে মেলানোর চেষ্টা চলছে, তখন বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নিয়েছেন। তাঁরা নির্ধারিত স্থানে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে আগ্রহীদের সঙ্গে ইংরেজি, স্প্যানিশ ও চাইনিজসহ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলছেন। মুনার সহযোগী সংগঠন ‘আল কুরআন একাডেমি’ এই বছর বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মাঝে প্রায় ১ লাখ কুরআন বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা দূর করতে দর্শনার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনাও করা হচ্ছে।
বিভিন্ন ভেন্যুতে দেখা গেছে, পর্যটক ও ক্রীড়ামোদিরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এসব প্রকাশনা সংগ্রহ করছেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামের নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। মুনা মনে করে, ইসলামের দাওয়াত মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং সুন্দর আচরণ, যুক্তি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সত্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল আদর্শ।
এই উদ্যোগের বিষয়ে আল কুরআন একাডেমির চেয়ারম্যান এবং মুনার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর প্রফেসর ড. রুহুল আমিন বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ঘরে একটি করে কুরআন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রতিবছর আমরা প্রায় এক লাখ কুরআন ফ্রি বিতরণ করি। এই বছর বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আমরা ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ পেয়েছি এবং এতে ব্যাপক সাড়াও মিলছে।”
তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চারটি ভাষায় ৫০টিরও বেশি দৃষ্টিনন্দন লিফলেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ইসলামের পরিচিতি সহজভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পর্যন্ত তাঁদের এই বিশেষ প্রচারণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরে এমন ইতিবাচক প্রচেষ্টা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
