নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামের বহুল আলোচিত পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাতকে (২২) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মামলার অন্য দুটি ধারা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, মামলার রায়ের তারিখ তিন দফায় পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত ৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ চার বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এই রায়ের মাধ্যমে অবশেষে ন্যায়বিচার পেল নিহত শিশু আসমার পরিবার। রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী ও নিহতের বাবা মাওলানা মো. শাহজাহান এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত মাওলানা মো. শাহজাহান কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পেয়েছি। এখন আসামি শাহাদাতের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি যেন দ্রুত কার্যকর হয়, সরকারের কাছে সেই দাবি জানাই।’
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা আক্তার। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার নয় দিন পর একই বাড়ির বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহাদাত জানায়, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার ভয়ে সে আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সেলিম শাহী রায়ের পর বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সব তথ্য, মেডিকেল রিপোর্ট, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে আমরা আদালতে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি এবং ন্যায়বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আদালত আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির যে রায় দিয়েছেন, তা উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর চাটখিলজুড়ে তীব্র গণক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। খুনি শাহাদাতের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সময়ে চাটখিলে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীরাও খুনি শাহাদাতের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
