ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশস্থলে এক ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টা ৪৩ মিনিটের দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ককটেল বিস্ফোরণে সমাবেশস্থলে উপস্থিত এনসিপির অন্তত তিনজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আহতরা হলেন—মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬) এবং মো. শাহাদাত হোসেন (৪০)। বিস্ফোরণের পরপরই উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে তখন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তাঁর বক্তব্য চলাকালেই আকস্মিক ও অতর্কিতভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে মুহূর্তের মধ্যে পুরো সমাবেশস্থল ধুলোয় ঢেকে যায় এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
ককটেল বিস্ফোরণের সময় সমাবেশ মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার মধ্যেই মঞ্চে থাকা নেতাদের জীবন রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন উপস্থিত কর্মীরা। সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা বা স্প্লিন্টারের আঘাত থেকে শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষিত রাখতে নেতাকর্মীরা দ্রুত নিজেদের শরীর দিয়ে নেতাদের চারপাশে একটি শক্ত ‘মানবঢাল’ তৈরি করে ফেলেন।
এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার পর পুরো সাভার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সমাবেশস্থল এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে হামলার ধরন ও নেপথ্যের কারণ নিয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
