সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশস্থলে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় মঞ্চে থাকা দলটির শীর্ষনেতা সারজিস আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে ‘মানবঢাল’ তৈরি করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ হাসান তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে জানান, সমাবেশ শুরুর পূর্বেই তারাপুর ঈদগাহ মাঠের সব বাতি পরিকল্পিতভাবে নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুরো মাঠ বিদ্যুৎহীন ও অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও নেতাকর্মীরা প্রোগ্রাম চালিয়ে যান। জাহিদ হাসানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর যখন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অন্ধকার মাঠের মধ্যে অতর্কিতে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এই কাপুরুষোচিত ও পরিকল্পিত বোমা হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজন শহীদের পিতাও রয়েছেন। বিস্ফোরণের পরপরই দলের স্বেচ্ছাসেবকরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাহিদ হাসান দাবি করেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া এই ধরনের পরিকল্পিত হামলা চালানো সম্ভব নয়। এটি মূলত নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে বোমা হামলার তোয়াক্কা না করেই এনসিপির নেতাকর্মীরা মাঠ ছাড়েননি এবং অন্ধকারেই সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। সমাবেশ শেষে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই হামলার জবাবদিহিতা ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
এদিকে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে এই নাশকতা চালানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জাহিদ হাসানের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার পেছনে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
