দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গাজা উপত্যকা শাসনের পর অবশেষে সেখানকার প্রশাসনিক ক্ষমতা ও শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। গাজায় হামাসের নির্বাহী সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট ফলো-আপ কমিটি’ বা জরুরি প্রশাসনিক কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামাসের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর কাছে গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক ও বেসামরিক দায়িত্ব হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের বিভিন্ন খাতের ১৫ জন সুপরিচিত টেকনোক্র্যাট ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই টেকনোক্র্যাট কমিটিকে গাজায় দ্রুত প্রবেশ করতে দেওয়া এবং তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, শান্তি পরিষদ ও গ্যারান্টার রাষ্ট্রগুলোর যেন ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি পুরোপুরি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কেবল বেসামরিক সেবা চালু রাখতে কারিগরি ও পেশাদার স্টাফরা মাঠে কাজ করবেন এবং প্রশাসনিক রূপান্তরের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, নবগঠিত এই জাতীয় কমিটির প্রধান আলী শাত (আলি শাথ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা গাজার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এই বেসামরিক শাসন প্রক্রিয়া সফল করতে তিনি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, গাজায় অবশ্যই ‘একই কর্তৃপক্ষ, একক আইন এবং সেই একক কর্তৃপক্ষের অধীনেই একক অস্ত্র’ থাকতে হবে। অর্থাৎ, নতুন এই বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে হামাসসহ অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে কোনো ধরনের সমান্তরাল অস্ত্র দেখতে চায় না তার কর্তৃপক্ষ।
হামাস কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সংশোধিত রোডম্যাপের আনুষ্ঠানিক জবাব জমা দিয়েছেন এবং গাজা পুনর্গঠন ও সম্পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী ধাপগুলো কার্যকরের লক্ষ্যে এখন ইসরায়েলের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০০৭ সাল থেকে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাসের এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা সচল করা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
