ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলছে। ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারত থেকেও একটি প্রতিনিধিদল সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। আমন্ত্রিত ভারতীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের (এলাহাবাদ) পণ্ডিত বিজয় কুমার শর্মা।
আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পণ্ডিত বিজয় কুমার শর্মা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি পুরোনো বক্তব্য ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা এবং ইরানের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা গেছে।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে পণ্ডিত বিজয় কুমার শর্মাকে বলতে শোনা যায়, “ইরানই একমাত্র দেশ, যারা কখনো আমেরিকাকে ভয় পায়নি। আমাদের সবার ইরানকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারণ, বহু বছর ধরে বিশ্ব এমন একজনের অপেক্ষায় ছিল, যে যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রকৃত অবস্থান বুঝিয়ে দিতে পারবে। ইরানই আমেরিকাকে হাঁটু গেড়ে বসিয়েছে।”
ইরানের জনগণের সাহসের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “হুসাইনিয়াত মানে মজলুমের পাশে দাঁড়ানো। আর আয়াতুল্লাহ খামেনি সব সময় বিশ্বের শোষিত ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্যটি ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ইরানের প্রতি এ ধরনের প্রকাশ্য সমর্থন কতটা যৌক্তিক, নাকি ভারতের ঐতিহ্যগত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিই বজায় রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় চার মাস পর আয়াতুল্লাহ খামেনির এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা দফায় দফায় তেহরানে গিয়ে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিজয় কুমার শর্মার মতো সনাতন ধর্মাবলম্বী পণ্ডিতের এই উপস্থিতি ও পুরোনো বক্তব্য দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
