টানা ২৭ দিন ধরে চলা তীব্র অসহযোগ আন্দোলনে কার্যত অচল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর। আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান আর পাকিস্তান সরকারের কঠোর দমননীতির কারণে অঞ্চলটির পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় অঞ্চলজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, যার ফলে কাশ্মীরের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে।
চলমান এই সহিংসতায় আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০ জন জানানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই চরম সংকটের মধ্যে কাশ্মীরের জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) শীর্ষ নেতা সরদার আমান খানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কাছে সরাসরি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানাতে এবং ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলতে শোনা যায়। আমান খান দাবি করেন, বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান চালানোর পর ইসলামাবাদ মূলত এই অঞ্চলে একটি অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে আমান খানকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ভারতের সহায়তা দরকার। এখানে তীব্র খাদ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে… আমাদের আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।” তিনি নয়াদিল্লির প্রতি মানবিক সাহায্য পাঠানোর এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরের সীমান্ত খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর যুক্তি, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বেসামরিক মানুষের যেন জীবন রক্ষার্থে ভারতে যাওয়ার সুযোগ বেছে নেওয়ার অধিকার থাকে।
রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমান খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, “আমরা কি নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) দিকে এগিয়ে যাব?” জবাবে উপস্থিত জনতা বারবার “এগিয়ে চলুন” বলে স্লোগান দিতে থাকে। তিনি পাকিস্তান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবির জবাবে যদি কর্তৃপক্ষ গুলি চালায়, তবে তাঁদের সামনেও বিকল্প অন্য পথ খোলা রয়েছে। তবে গণমাধ্যমগুলো এই ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে না পারলেও ধারণা করা হচ্ছে এটি গত ৩০ জুনের একটি সমাবেশের চিত্র।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন থেকে বিধানসভায় সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন ডাকা হরতালের পর থেকেই মূলত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের জন্য নয়, বরং কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ ও গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানাতেই নেওয়া হয়েছে। আজাদ কাশ্মীরে স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পিটিআই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
