পাবনার আতাইকুলায় এক গৃহবধূর তিন আঙুল কেটে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কুখ্যাত ‘নান্নু বাহিনী’র বিরুদ্ধে এবার সরকারি ভিজিডি, ভিজিএফ ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। নান্নুর নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র গ্রামের সহজ-সরল নারীদের কাছ থেকে সরকারি বিভিন্ন ভাতার কার্ড দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সম্প্রতি এই চক্রের খপ্পরে পড়ে নিজেদের কষ্টার্জিত প্রায় অর্ধ লাখ টাকা খুইয়েছেন দুই দুস্থ নারী। ভুক্তভোগীরা তাঁদের টাকা ফেরত চাইলে উল্টো নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারীরা গত ৩ জুলাই আতাইকুলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দায়েরকৃত অভিযোগে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা নান্নুসহ ওই চক্রের আরও পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার শ্রীকোল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. নান্নু প্রামাণিক (৩০), মুক্তার প্রমাণিক (৪২), সাদ্দাম প্রামাণিক (৩৫), কেরু প্রামাণিক (৬০) এবং সিয়াম প্রামাণিক (২০)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নান্নু ও তার সহযোগীরা এলাকায় সরকারি বিভিন্ন ভাতার কার্ড সহজে পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। তাদের কথায় প্রলুদ্ধ হয়ে ভাতার কার্ডের আশায় শ্রীকোল গ্রামের মৃত সেকেন শেখের স্ত্রী মোছা. রুশনী খাতুন নান্নুকে ৩০ হাজার টাকা দেন। একইভাবে একই গ্রামের মোছা. হামিদা খাতুনও ধার-দেনা করে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন নান্নুর হাতে।
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা কোনো কার্ড পাননি। ভুক্তভোগী রুশনী খাতুন জানান, কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে নান্নু নানা টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে সে পরিবারসহ তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। রুশনী খাতুনের ছেলে মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসী হিসেবে মোবাইল ফোনে টাকা ফেরত চাইলে নান্নু তাকেও হুমকি দেয়। এই নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এই নান্নু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। গত ২ জুলাই রাতে শ্রীকোল গ্রামে সন্ত্রাসী কায়দায় দুদু মোল্লার বাড়িতে হামলা চালায় নান্নু বাহিনী। হামলাকারীরা দুদু মোল্লাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে গেলে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় হামলাকারীদের নৃশংস কোপে সাবিনা ইয়াসমিনের ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, ভাতার কার্ডের নামে এই চক্রটি আরও অনেকের কাছ থেকেই কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত মো. নান্নু প্রামাণিক পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
