বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না। এ রায় বাস্তবায়নে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চলবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সব গণহত্যার বিচার’ দাবিতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায় বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। সংসদে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। নতুন বা পুরোনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও গণভোটের রায়কে খাটো করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে তারা নন, তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা হলে দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজ নীরব থাকবে না।
গণভোট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, সংসদে দেওয়া কিছু বক্তব্যেই সরকারপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত নির্বাচন চেয়েছে, তবে ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন নয়। নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ফল মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, গণভোট হয়েছিল দেশের রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্য, কেবল কমিশন গঠনের জন্য নয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রকৃত সংস্কারই এখন প্রয়োজন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।







