সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে এদিন আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়নি। তবে তাকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করা হলেও মামলার মূল নথি আদালতে না থাকায় সেদিন শুনানি স্থগিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।
এদিকে, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। তাঁর আইনজীবীরা তখন দাবি করেছিলেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
এরপর গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ৩০ জুন হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিলে রাষ্ট্রপক্ষ আবারও আপিল বিভাগে যায়। পরে ২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাঁচ মামলাসহ একাধিক মামলায় গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ তাঁর জামিন বহাল রেখেছিলেন। তবে নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ফলে তাঁর কারামুক্তি আবারও আটকে গেল।
