রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার এই আদেশ দেওয়া হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে রাশেদ খান মেননকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে, দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান গত ৩০ জুন মেননকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী।
দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে বিধিমালা লঙ্ঘন করে রাশেদ খান মেননের পূর্বপরিচিত ১৩ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই জালিয়াতির ঘটনায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের বিশেষ গভর্নিং কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি নিয়োগ বোর্ড গঠন করে। ওই বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তাঁর প্রতিনিধি এবং কোনো বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক রাখা হয়নি।
এ ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এনটিআরসিএ (NTRCA) সনদ বাধ্যতামূলক থাকার কথা থাকলেও, তা ছাড়াই বিশেষ পছন্দের প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অবৈধ সুযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া এক যোগ্য প্রার্থীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতেই দেওয়া হয়নি। এমনকি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার আগেই পছন্দের প্রার্থীদের নামে নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।
এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন এবং গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খানসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক ও সুবিধাভোগী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী अपराधের একটি মামলাতেও বর্তমানে তাঁর বিচার চলছে।







