দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নূরানী অথবা তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন করে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে এই দাবি জানান নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা।
সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে মাছুম মোস্তফা বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। দেশের অধিকাংশ মুসলিম পরিবার তাদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শেখাতে অত্যন্ত আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য তাজবিদভিত্তিক ও বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষা প্রদানের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা পাঠদান করা হলেও শুদ্ধ উচ্চারণ, মাখরাজ এবং তাজবিদের নিয়মাবলী অনুসরণ করে কোরআন শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক পাওয়া যায় না। এর ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষ করেও শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে না।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এই সীমাবদ্ধতার কারণে অভিভাবকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পৃথকভাবে মক্তব, নূরানী শিক্ষা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হয়। অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে একেবারে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
নূরানী ও তালিমুল কোরআন পদ্ধতির কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিগুলো বর্তমানে শিশুদের শুদ্ধ কোরআন শিক্ষা প্রদানের একটি পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে দেশব্যাপী স্বীকৃত। এসব পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ খুব অল্প সময়ে শিশুদের বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত, তাজবিদ এবং মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান প্রদানে সক্ষম।”
অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শেখার সুযোগ পাবে। একই সাথে এটি তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
