শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে দায়িত্বরত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি কার্যালয়ে নিজের সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঠিক ওই সময়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর এলজিইডি কার্যালয়ে এসে উপজেলা প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে চান। প্রকৌশলী মাঠপর্যায়ে রাস্তার কাজ পরিদর্শনে রয়েছেন বলে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করতে শুরু করেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে ওই নেতা উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার চেপে ধরে তাঁকে চড় মারেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে ‘মারতে এসেছেন’ বলেও হুমকি দেন। পরে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগে বলা হয়, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মতিউর রহমান সাগর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নিলে তিনি আবারও অফিসে এসে মারধর করবেন এবং বড় ধরনের ক্ষতি করবেন। এই ঘটনার পর থেকে এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার এক মাস পর কেন জিডি করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আগেই ঘটেছিল। তবে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নড়িয়া থানায় জিডিটি করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগে মারধর ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
