আধুনিক রাজনৈতিক জায়নবাদের প্রতিষ্ঠাতা এবং ইসরায়েলের ‘আধ্যাত্মিক পিতা’ হিসেবে পরিচিত থিওডোর হার্জেল ১৮৯৬ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘দ্য জিউইশ স্টেট’ (The Jewish State) গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। এই বইয়ের মাধ্যমেই তিনি প্রথম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদের জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।
ঐতিহাসিক এই গ্রন্থে হার্জেল ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বের দুটি সম্ভাব্য অঞ্চলের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। এর একটি ছিল ওসমানের শাসনাধীন ফিলিস্তিন এবং অপরটি ছিল দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের দেশ আর্জেন্টিনা। বইটিতে তিনি আর্জেন্টিনার উর্বর ভূমি, অনুকূল জলবায়ু এবং জনবিরল বিশাল অঞ্চলের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
তবে ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও প্রতীকী সংযোগের কারণে থিওডোর হার্জেলের প্রথম পছন্দ ছিল ফিলিস্তিন। তিনি তাঁর বইয়ে বিশ্বজুড়ে থাকা ধনী ইহুদিদের ফিলিস্তিনের জমি কেনা শুরু করার পরামর্শ দেন। তাঁর এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই তৎকালীন জায়নবাদী আন্দোলন ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে অগ্রসর হতে শুরু করে এবং আর্জেন্টিনা তাদের বিকল্প বা দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে থেকে যায়।
বর্তমানে আর্জেন্টিনায় ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করে। দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই জনগোষ্ঠীর বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার এই প্রভাবশালী জায়নবাদী গোষ্ঠীর বড় সমর্থনে দেশটির ডানপন্থী ও কট্টর ইসরায়েলপন্থী নেতা হাভিয়ার মিলেই ৫৫.৬% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
হাভিয়ার মিলেই ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তেল আবিবের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্ক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা থাকলেও আর্জেন্টিনা ইসরায়েলকে নিঃশর্ত ও প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে জায়নবাদী বলয়ের কাছে আর্জেন্টিনা সবসময়ই একটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। এমনকি ইসরায়েলের ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনেও আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি এক ধরনের বিশেষ পক্ষপাত লক্ষ্য করা যায়। ফলে বর্তমান বিশ্লেষকদের অনেকেই আর্জেন্টিনাকে জায়নবাদের এক ধরণের প্রক্সি দেশ বা অনানুষ্ঠানিক দ্বিতীয় আবাসভূমি হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।







