ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তার পদত্যাগ এবং ‘ওয়ারিশদের দাবির’ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় সেন্টারের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমাও পদত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে তাঁরা জানিয়েছেন, সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতেই তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে পদত্যাগকারীদের এই দাবি ও ঘোষণাকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন।
মাসুমা হাদি প্রশ্ন রেখে বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত ও কোরানিক আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে আমার ভাইয়ের সব কিছুর একমাত্র ওয়ারিশ হচ্ছেন আমার মা, ভাইয়ের স্ত্রী এবং সন্তান। এই তিনজনের মধ্যে ঠিক কে ইনকিলাব সেন্টারের মালিকানা বা দায়িত্ব দাবি করেছে?”
ফেসবুক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর একেকটা ইস্যু সামনে এনে পরিবারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। পদত্যাগ করা বা না করা একান্তই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, কিন্তু এর পেছনে পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে মিথ্যাচার করার কোনো মানে হয় না।
মাসুমা হাদি স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের কোনো পদ বা পদবি কখনো চাননি। তিনি শুধু তাঁর ভাইয়ের কবর স্থায়ীকরণ, ভাইয়ের নাম শহীদের তালিকায় গেজেটভুক্ত করা এবং তাঁর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে সেন্টারের কর্মীদের পাশে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই সেন্টারের কেউ তাঁর সাথে সহযোগিতা করেনি, এমনকি তাঁর ফোনকল পর্যন্ত রিসিভ করা হয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই ওমর হাদি নামের একজন দায়িত্বশীল পদে ছিলেন এবং সেই সূত্রে তাঁকে সেন্টারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি করা হয়েছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায়, ওমর হাদি দেশের বাইরে থাকলেও তাঁর সাথে কথা বলে বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যেত। কিন্তু তা না করে হঠাৎ পরিবারের ওপর দোষ চাপিয়ে পদত্যাগের পেছনে কোনো ‘দুরভিসন্ধি’ বা অন্য কারও ‘এজেন্ডা’ থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পোস্টের শেষে মাসুমা হাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই কালচারাল সেন্টার একক কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয়, এটি দেশের সাধারণ জনগণের অর্থায়নে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান। এটিকে ধ্বংস করার যে মিশন বা ষড়যন্ত্র চলছে, তা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া যাবে না। ভাইয়ের আদর্শের সাথে যারা গাদ্দারি করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।







