চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সাথে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। জামায়াত আমিরের সাথে বন্যার পানিতে নেমে তাঁর এই ত্রাণ বিতরণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জামায়াত আমিরের ছায়াতলে এখনই নিজেকে প্রস্তুত করছেন এই ছাত্রনেতা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান ডা. শফিকুর রহমান। সফরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ। শীর্ষ নেতাদের সাথে থেকে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে তাঁর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
বন্যা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দিকনির্দেশনামূলক পোস্ট দিয়েছেন এস এম ফরহাদ। তিনি লিখেন, “বন্যাকবলিত দেশের প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে ছাত্রশিবির আক্রান্ত পরিবারগুলোর কাছে সীমিত পরিসরে শুকনো খাবার ও ওষুধপত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে এই ছাত্রনেতা আরও উল্লেখ করেন, “আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এত বেশি এবং এত দ্রুত বাড়ছে যে, একক কোনো সংগঠনের পক্ষে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের এই সংকটে দেশের সকল সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের এগিয়ে আসা জরুরি।” সংকট উত্তরণে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সরকারের দ্রুত, সমন্বিত ও আন্তরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেন।
এদিকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, শিবিরের বিভিন্ন ইউনিট মাঠপর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকায় ছাত্রশিবির সাতকানিয়া উপজেলার পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামীম উদ্দীন। ডাকসু জিএস ফরহাদের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
