লন্ডনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পরিবহন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যুক্তরাজ্যের পরিবহনবিষয়ক মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লন্ডনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, বন্দর উন্নয়ন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
বৈঠকে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকার বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের প্রসঙ্গটি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রানজিট ও নাবিক-সংক্রান্ত ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন শেখ রবিউল আলম।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্প, সামুদ্রিক প্রকৌশল, বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দরভিত্তিক শিল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নৌপরিবহন খাতের পরিবেশগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে কাজ করছে। দেশের ৪২টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে সেই মানদণ্ডে উন্নীত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের বৈশ্বিক উদ্যোগকে বাংলাদেশ পূর্ণ সমর্থন করে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠক শেষে শেখ রবিউল আলম যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। উভয় পক্ষই আগামীতে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
