দেশের ব্যাংক খাতের অর্থ আত্মসাৎকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শাস্তির পাশাপাশি ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসন-৪ এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।
বক্তব্য প্রদানকালে রেহানা আক্তার রানু বলেন, “ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ক্ষমা নেই, কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ডিম থেরাপির মাধ্যমে লুণ্ঠিত টাকা আদায় করতে হবে।” এ সময় তিনি এক নারী আমানতকারীর অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের এই স্বপ্ন ও আকুতি কি কখনো সত্যি হবে?
সংসদ সদস্য রানু আরও উল্লেখ করেন, গত ৪ জুলাই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অর্থমন্ত্রীর চট্টগ্রামের বাসার সামনে মানববন্ধন করে তাঁদের আকুতি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ব্যাংক ডাকাতদের ডাকাতির খেসারত কেন সাধারণ আমানতকারীদের দিতে হবে? আমানতকারীদের কী অপরাধ?” তিনি অনতিবিলম্বে ৭৫ লাখ গ্রাহকের লুণ্ঠিত আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
রেহানা আক্তার রানুর এই ক্ষোভ ও দাবির জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, গ্রাহকরা তাঁদের লুণ্ঠিত টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন। যেহেতু সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তাই কোনো গ্রাহকের টাকাই কাটা (হেয়ার কাট) যাবে না। তবে ব্যাংকগুলো বর্তমানে লোকসানে থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষার পরিমাণ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মূল অপরাধীদের ও ব্যাংক লুটেরাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে বর্তমানে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চালানো হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী, এই অর্থ আত্মসাতের সাথে দায়ী ব্যক্তিদের দেশি-বিদেশি সকল সম্পত্তি ও তহবিল নিলাম বা বিক্রয় করে সাধারণ গ্রাহকের টাকা উদ্ধার করা হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
