জামায়াতে ইসলামী ঢাকার সবকটি আসনেই বিজয়ী হয়েছিল, কিন্তু একটি সূক্ষ্ম ও নিখুঁত পরিকল্পনার (মেটিকুলাস ডিজাইন) মাধ্যমে সেই বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা জামায়াতের ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। মহানগরী কার্যালয়ের হলরুমে এই শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়।
এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “হাজারো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে সক্রিয় ছিল। দেশের মানুষও জামায়াতকে ক্ষমতায় বসাতে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু ভোট জালিয়াতি ও গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিমে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব না পেতে পারে।”
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের সূত্র টেনে তিনি বলেন, “আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার পেছনে যে গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছে, তার স্বীকারোক্তি খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও দিয়েছিলেন। মূলত সরকারের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি চক্র এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।”
উপস্থিত দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সমাজের মানুষের কাছে জামায়াত কর্মীদের ‘মানবিক নেতৃত্বের ভাণ্ডার’ হিসেবে যে সুনাম রয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া দ্বীনের কাজ করা সম্ভব নয়।
দায়িত্বকে একটি বড় আমানত উল্লেখ করে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির সতর্ক করে বলেন, এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে আমানতের খেয়ানত হবে। সাধারণ মানুষ যাতে একজন কর্মীর আচরণের মাঝেই পুরো জামায়াতে ইসলামীকে খুঁজে পায়, সেভাবে অতীত ধারা বজায় রেখে আগামীতেও মানুষের জন্য মানবিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা জামায়াতের আমির মো. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
