রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধ ঘোষণার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান পুনরায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের তদবিরে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই এবং পূর্বের অনিয়ম বহাল রেখেই এসব প্রতিষ্ঠান রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার, আইসিইউ সেবাসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার, চানখাঁরপুল ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। কোথাও কোথাও সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী এনে ভর্তি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত মার্চে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে চারটি হাসপাতাল ও ছয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি দুটি হাসপাতালের আইসিইউ ও এনআইসিইউতে রোগী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন্ধ হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান আবার আগের মতোই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান সাময়িক প্রভাব ফেললেও নিয়মিত তদারকির অভাবে অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নবায়ন ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এ এম শামীম বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন বাধ্যতামূলক এবং বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, শুধু অভিযান নয়; নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর লাইসেন্স ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক তদারকি নিশ্চিত করলেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
