লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম জিয়াউল হক জিয়ার ভাতিজা মোহাম্মদ জহিরুল হক (৪৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেথুড়ী বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজার এলাকা থেকে ইয়াবাসহ আটক দুই যুবককে জনতা পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর তাদের বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া ও ঘটনাকে ঘিরে কয়েকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে রাজু ধারাল অস্ত্র দিয়ে জহিরুল হককে উপর্যুপরি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জহিরুল হককে উদ্ধার করে প্রথমে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় পাঠান।
এই হামলার ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রবীণ নেতার ভাতিজা ও দলীয় সাধারণ সম্পাদকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হামলাকারী রাজুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা দাবি ও প্রতিদাবি শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রাজু কখনই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
