আরেকবার পিছিয়ে পড়া এবং আরেকবার কঠিন পরীক্ষার মুখে ইংল্যান্ড। তবে সংকট যত বড় হয়েছে, জুড বেলিংহাম যেন ততটাই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও জাল খুঁজে নেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর অনবদ্য জোড়া গোলেই নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে ম্যাচটি ১-১ সমতায় ছিল। তবে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বেলিংহামের করা দ্বিতীয় গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৬৬, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের আসরে সেমিফাইনাল খেলেছিল তারা। আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়তে থাকে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম লিড পায় নরওয়ে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে নরওয়ের এই ফরোয়ার্ডের গোলটি দলকে স্তিতিশীলতা এনে দেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সমতায় ফেরে টমাস টুখেলের দল। উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান বেলিংহাম। ফলে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণের ধারায় ইংল্যান্ডকে বেশ চাপে রেখেছিল তারা। তবে আর্লিং হালান্ডের দল একাধিক সুযোগ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার তিন মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বেলিংহাম। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ডের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি তিনি। বলের গতিপথ আগেই আন্দাজ করে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ মিডফিল্ডার।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার জন্য শেষ পর্যন্ত মরিয়া হয়ে লড়াই করে নরওয়ে। আন্তোনিও নুসা বাঁ দিক থেকে বারবার ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ তৈরির চেষ্টা করেন। তাঁর একটি দুর্দান্ত ক্রস ইংলিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হলে সেখান থেকে সুবর্ণ সুযোগ পান অস্কার বব। তবে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে নেওয়া তাঁর শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে সান্দার বের্গের একটি জোরালো শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। নুসা একবার ইংল্যান্ডের রক্ষণের পেছনে ঢুকে পড়লেও অফসাইডের ফাঁদে ধরা পড়েন। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণে বব বল পেলে বদলি হিসেবে নামা ডিজেড স্পেন্স দুর্দান্ত ট্যাকলে তাঁকে থামিয়ে দেন। স্পেন্স মাঠে নামার পর নরওয়ের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি বল নিয়ে সামনে উঠে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেন।
অতিরিক্ত সময়ের মাঝামাঝি সময়ে বুকায়ো সাকা ও স্পেন্সের পরপর তিনটি নিশ্চিত গোল প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে নরওয়েকে ম্যাচে রেখেছিলেন গোলরক্ষক নিল্যান্ড। প্রথমে সাকার নিচু শট রুখে দেওয়ার পর স্পেন্সের প্রচেষ্টা ঠেকান তিনি। এরপর আবার ক্ষিপ্রতার সাথে উঠে দাঁড়িয়ে সাকার কোণাকুণি শটও প্রতিহত করেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের ভুলের মাশুল দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
শেষ বাঁশি বাজার পর মায়ামির মাঠে দেখা যায় বিপরীত দুই আবেগের ছবি। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের অনেকে স্বস্তি ও ক্লান্তিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সেমিফাইনালের উল্লাসে। অন্যদিকে ম্যাচ হেরে গোলরক্ষক নিল্যান্ডকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে স্পোর্টসম্যানশিপের অনন্য নজির দেখিয়ে নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হালান্ড ম্যাচ শেষে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান।
