আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষদিকে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য।
শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, দেশের অর্থনীতি, নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বন্যা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় বৈঠকের শুরুতে তাকে অভিনন্দন জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং নির্বাচনের উপযোগী সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতারা।
জাতীয় কাউন্সিল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য বছরের শেষদিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার নীতির বিপক্ষে মত দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে দলটির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
