কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ও দুর্ধর্ষ নৌ-ডাকাতির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় তিনি ডাকাতদের উদ্দেশে ‘শেষ ওয়ার্নিং’ দেওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর হাওরে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এমপি ফজলুর রহমান বলেন, ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনের হাওর এলাকায় কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা তাঁকে বিক্ষুব্ধ ও বিস্মিত করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে কোনো দেশবিরোধী শক্তি এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি এলাকার মানুষকে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে, পর্যটন অঞ্চল হিসেবে হাওরের সুনাম ধরে রাখতে নিজেদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের পর হাওরে নৌকা চলাচল বন্ধে জেলা পুলিশের জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করে এমপি বলেন, এটি ‘মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার’ মতো একটি সিদ্ধান্ত। হাওরাঞ্চলে যুগ যুগ ধরে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজনে নৌকা চলেছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের স্বার্থে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।
অপরাধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ডাকাতদের তালিকা ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি নিজে এলাকায় এসে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে ডাকাতদের আস্তানায় অভিযান চালাবেন। তবে যারা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, তাদের প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ ও তওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং তাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখা হবে।
হাওরাঞ্চলের বিশাল জলসীমায় নিরাপত্তা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন থানার জন্য তিনটি দ্রুতগামী স্পিডবোট বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান ফজলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ডাকাতরা আধুনিক ও দ্রুতগামী নৌকা ব্যবহার করায় পুলিশকে উপযুক্ত সরঞ্জাম দেওয়া জরুরি। একই সাথে পর্যটকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “হাওরে নিশ্চিন্তে আসুন, আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের।”
উল্লেখ্য, গত এক মাসে হাওরাঞ্চলে একের পর এক নৌ-ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৭ জুন রাতে মিঠামইন ও করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৪০ জন পর্যটককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট করা হয়।
এর ঠিক এক মাস পর, গত ৭ জুলাই রাতে করিমগঞ্জের বালিখোলা থেকে মিঠামইনগামী একটি ট্রলারে বর্বরোচিত ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একটি ১৫ দিনের শিশুর মরদেহ বহনকারী ওই ট্রলারে হামলা চালিয়ে ডাকাতরা মোবাইল ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। সবশেষে গত ৮ জুলাই রাতেও ইটনা উপজেলার বগাডুবি খাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রলারে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ডাকাতি ও নগদ ৭৪ হাজার টাকা লুটের ঘটনা ঘটে।
