কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের হেফাজত থেকে এক পলাতক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানবপাচারসহ একাধিক গুরুতর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি কাশেমকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযানে নামে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল। পুলিশ সফলভাবে কাশেমকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরায় এবং তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে।
ঠিক সেই মুহূর্তে কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শফিউল আলমের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। তারা আকস্মিকভাবে পুলিশ সদস্যদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং হাতকড়া পরা আসামিকে মুক্ত করতে পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের তীব্র ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই হট্টগোল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা হাতকড়াসহ আসামি কাশেমকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এই ধৃষ্টতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ছিনতাই হওয়া আসামি কাশেমকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে এবং পুলিশের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি নেতা শফিউল আলমসহ জড়িত বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এলাকায় পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
