কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য কিলওয়েন গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তার ভাষায়, অনেকেই জানতে চাইছেন—ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত থেকে ওয়াশিংটন আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছিল।
উলম্যানের মতে, সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও সেই শক্তিকে কৌশলগত সাফল্যে রূপ দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু সেই শক্তি দিয়ে কি তারা ইরানকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারবে? আমার মনে হয়, তা সম্ভব নয়।”
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে ইরানই তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ, ইরান শুধু হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া বা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার হুমকি দিলেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কার্যত আকাশপথে হামলা চালানো ছাড়া খুব বেশি কার্যকর বিকল্প নেই। তবে এমন সামরিক পদক্ষেপও এমন কোনো ফল দিচ্ছে না, যা কোনো পক্ষের জন্যই ইতিবাচক।
হারলান উলম্যান সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বহন করছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একদিন, এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
