চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকায় এবার ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ায় এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছনুয়া ইউনিয়নে আছবাহার বেগম (৩৫) ও মরিয়ম বেগম (১৮) নামে দুই নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিহতদের মধ্যে আছবাহার বেগম ছনুয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফৈয়জানীপাড়ার কামাল উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি গত শুক্রবার মারা যান। অন্যদিকে শনিবার মারা যাওয়া মরিয়ম বেগম একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড খাসপাড়ার রিয়াজুদ্দিনের স্ত্রী বলে জানা গেছে। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বানভাসি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে মেডিকেল টিমের সদস্যরা নিজেরাই পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ডা. নাজমা আক্তার আরও জানান, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রচুর রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন। হাসপাতাল থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত মূল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ছনুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমীন বলেন, তাঁর ইউনিয়নের মধুখালী, ছেলবন, খুদুকখালী, চেমটখালী ও ছনুয়ার টেকে এখনো বহু মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে এখন পর্যন্ত নামমাত্র শুকনো খাবার বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বহু শিশু, নারী ও বৃদ্ধ অনাহারে ও অর্ধাহারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অবরুদ্ধ এই মানুষগুলোর জন্য দ্রুত সুপেয় পানি ও পর্যাপ্ত ওআরএস (ওরস্যালাইন) পৌঁছানো জরুরি বলে জানান তিনি।
