গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পলাশবাড়ীতে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান এবং ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম টিমের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানায় হরিদাসের বিরুদ্ধে একটি মানি লন্ডারিং মামলা রয়েছে। সেই মামলায় স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে যায় সিআইডি। তিনি আরও জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ধর্মকে পুুঁজি করে প্রতারণাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত ছিলেন।
ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, রোববার রাতেই তরণীর বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম টিম মামলাটি তদন্ত করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরিদাস চন্দ্র তরনী এর আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সেই মামলা থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
গত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তিনি আবারও প্রকাশ্যে আসেন এবং মূর্তি ও ধর্মের নামে নতুন করে প্রতারণা শুরু করেন। এর আগে, তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেছিলেন এবং সেই সময় সুমি ইসলাম নামের একজনকে বিয়ে করেছিলেন বলেও জানা যায়।
