টানা বৃষ্টিপাত, ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদদীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পৃথক দুটি স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ জানান এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরীক্ষা স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার মানবিক দাবি জানান।
একটি ফেসবুক পোস্টে হামীম নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আজ সকালে শান্তিনগর মোড়ের পপুলারে যাওয়ার পথে যে বৃষ্টি আর রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা দেখেছি, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমি গাড়িতে থেকেও শিক্ষার্থীদের যে নাজেহাল অবস্থা দেখলাম, তাতে সহজেই অনুমেয় যে গ্রামগঞ্জের পরিস্থিতি কতটা খারাপ।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, আজ তিনি নিজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।
এর আগে দেওয়া অপর এক স্ট্যাটাসে ছাত্রদলের এই নেতা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। চট্টগ্রামসহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
হামীম উল্লেখ করেন, এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে আজ শিক্ষার্থীদের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে, তার ভিডিও ও চিত্র ইতিমধ্যেই সবার নজরে এসেছে। তাই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত একাডেমিক পরিকল্পনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে—এটি সত্য। তবে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে, একজন শিক্ষার্থী তার জীবনে একবারই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, আর এই পরীক্ষার ফলাফল তার উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
