সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে আকস্মিক এই গুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার (১৩ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তলুইগাছা বিওপির একটি নিয়মিত রাতের টহল দল সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় সীমান্তের মেইন পিলার-১৩ সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনক কয়েকজনের চলাচল ও কথাবার্তার শব্দ শুনতে পায় টহল দলটি।
শব্দ অনুসরণ করে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে দ্রুত এগিয়ে যান। এ সময় তাঁরা জিরো লাইন থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে চারাবাড়ি এলাকায় দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তাদের গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের থামার নির্দেশ দেন।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তিরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে ভারতের দিকে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় টহল দল তাদের বারবার থেমে পরিচয় দেওয়ার এবং আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা সেই নির্দেশ অমান্য করে আরও দ্রুত সীমানা পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে থাকে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান আরও জানান, এমন পরিস্থিতিতে চোরাকারবারিদের ধাওয়া করা হয় এবং আত্মরক্ষা ও তাদের গতিরোধের উদ্দেশ্যে ভীতি প্রদর্শন করতে গুলি ছোড়ে বিজিবি। তবে বিজিবির গুলির মুখে তারা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কাটাতারের ওপারে ভারতীয় সীমানায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুলি ছোড়ার পর পরই ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। তবে সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে চলে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নিয়মিত টহল এবং কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
