চলমান বন্যা, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলনের মধ্যেই আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললেও সার্বিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এই আন্দোলন, পরীক্ষা স্থগিতের দাবি এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কারণে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তায় পরীক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারছেন না। ফলে একদিকে আন্দোলন আর অন্যদিকে নির্ধারিত পরীক্ষার প্রস্তুতি—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দোটানায় সময় পার করছেন হাজারো শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগের দিনগুলো সাধারণত পড়া পুনরাবৃত্তি ও চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু এখন পড়ার টেবিলে বসেও তাঁদের বারবার নজর রাখতে হচ্ছে আন্দোলনের কর্মসূচি, শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের নতুন কোনো ঘোষণার দিকে। ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকের মতে, এই ধরনের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা পরীক্ষার পারফরম্যান্সেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে বৈষম্যহীন ও সমান নীতি অনুসরণ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, পড়ার সময় নষ্ট করার জন্য নয়, বরং এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সবার জন্য সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতেই তাঁরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।
এদিকে দিনভর বিক্ষোভ ও অবরোধের পরও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বরং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি সব বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলমান থাকবে।
বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আপাতত যে অবস্থা আছে, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি ও সবার মতামত নিয়ে পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তবে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এমন অনিশ্চয়তা থাকলে স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা নিয়ে পরীক্ষার হলে বসা অসম্ভব।
